এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

সৈয়দ মুজতবা আলী'র পঞ্চতন্ত্রের প্রথম পর্ব "বই কেনা"



মাছি-মারা-কেরানী নিয়ে যত ঠাট্টা-রসিকতাই করি না কেন, মাছি ধরা যে কত শক্ত সে কথা পর্যবেক্ষণশীল ব্যক্তিমাত্ৰই স্বীকার করে নিয়েছেন। মাছিকে যেদিক দিয়েই ধরতে যান না কেন, সে ঠিক সময় উড়ে যাবেই। কারণ অনুসন্ধান করে দেখা গিয়েছে, দুটো চোখ নিয়েই মাছির কারবার নয়, তার সমস্ত মাথা জুড়ে নাকি গাদা গাদা চোখ বসানো আছে। আমরা দেখতে পাই শুধু সামনের দিক, কিন্তু মাছির মাথার চতুর্দিকে চক্রাকারে চোখ বসানো আছে বলে সে একই সময়ে সমস্ত পৃথিবীটা দেখতে পায়।

তাই নিয়ে গুণী ও জ্ঞানী আনাতোল ফ্রাঁস দুঃখ করে বলেছেন, ‘হায়, আমার মাথার চতুর্দিকে যদি চোখ বসানো থাকতো, তাহলে আচক্ৰবালবিস্তৃত এই সুন্দরী ধরণীর সম্পূর্ণ সৌন্দর্য একসঙ্গেই দেখতে পেতুম।’

কথাটা যে খাঁটি, সে-কথা চোখ বন্ধ করে একটুখানি ভেবে নিলেই বোঝা যায়। এবং বুঝে নিয়ে তখন এক আপশোস ছাড়া অন্য কিছু করবার থাকে না। কিন্তু এইখানেই ফ্রাঁসের সঙ্গে সাধারণ লোকের তফাৎ। ফ্রাঁস সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন, ‘কিন্তু আমার মনের চোখ তো মাত্র একটি কিংবা দুটি নয়। মনের চোখ বাড়ানো-কমানো তো সম্পূর্ণ আমার হাতে। নানা জ্ঞানবিজ্ঞান যতই আমি আয়ত্ত করতে থাকি, ততই এক-একটা করে আমার মনের চোখ ফুটতে থাকে।’

পৃথিবীর আর সব সভ্য জাত যতই চোখের সংখ্যা বাড়াতে ব্যস্ত, আমরা ততই আরব্য-উপন্যাসের এক-চোখ দৈত্যের মত ঘোৎ ঘোৎ করি আর চোখ বাড়াবার কথা তুললেই চোখ রাঙাই।

চোখ বাড়াবার পন্থাটা কি? প্রথমত-বই পড়া, এবং তার জন্য দরকার বই কেনার প্রবৃত্তি।

মনের চোখ ফোটানোর আরো একটা প্রয়োজন আছে। বারট্রান্ড রাসেল বলেছেন, ‘সংসারে জ্বালা-যন্ত্রণা এড়াবার প্রধান উপায় হচ্ছে, মনের ভিতর আপন ভুবন সৃষ্টি করে নেওয়া এবং বিপদকালে তার ভিতর ডুব দেওয়া। যে যত বেশি ভুবন সৃষ্টি করতে পারে, যন্ত্রণা এড়াবার ক্ষমতা তার ততই বেশি হয়।’

অর্থাৎ সাহিত্যে সান্ত্বনা না পেলে দর্শন, দর্শনে কুলিয়ে উঠতে না পারলে ইতিহাস, ইতিহাস হার মানলে ভূগোল—আরো কত কি।

কিন্তু প্রশ্ন, এই অসংখ্য ভুবন সৃষ্টি করি কি প্রকারে?

বই পড়ে। দেশ ভ্ৰমণ করে। কিন্তু দেশ ভ্ৰমণ করার মত সামৰ্থ্য এবং স্বাস্থ্য সকলের থাকে না, কাজেই শেষ পর্যন্ত বাকি থাকে বই। তাই ভেবেই হয়ত ওমর খৈয়াম বলেছিলেন,’–





Here with a loaf of bread
beneath the bough.
A flash of wine, a book of
verse and thou,
Beside me singing in the wilderness
And wilderness is paradise enow.







রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে, কিন্তু বইখানা অনন্ত-যৌবনা—যদি তেমন বই হয়। তাই বোধ করি খৈয়াম তাঁর বেহেশতের সরঞ্জামের ফিরিস্তি বানাতে গিয়ে কেতাবের কথা ভোলেন নি।

আর খৈয়াম তো ছিলেন মুসলমান। মুসলমানদের পয়লা কেতাব কোরানের সর্বপ্রথম যে বাণী মুহম্মদ সাহেব শুনতে পেয়েছিলেন তাতে আছে ‘আল্লামা বিল কলমি’ অর্থাৎ আল্লা মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন ‘কলমের মাধ্যমে’। আর কলমের আশ্রয় তো পুস্তকে।

বাইবেল শব্দের অর্থ বই — বই par excellence, সর্বশ্রেষ্ঠ পুস্তক — The Book.

যে দেবকে সর্বমঙ্গলকার্মের প্রারম্ভে বিঘ্নহন্তারূপে স্মরণ করতে হয়, তিনিই তো আমাদের বিরাটতম গ্ৰন্থ স্বহস্তে লেখার গুরুভার আপনি স্কন্ধে তুলে নিয়েছিলেন। গণপতি ‘গণ’ অর্থাৎ জনসাধারণের দেবতা। জনগণ যদি পুস্তকের সম্মান করতে না শেখে, তবে তারা দেবভ্ৰষ্ট হবে।

কিন্তু বাঙালি নাগর ধর্মের কাহিনী শোনে না। তার মুখে ঐ এক কথা ‘অত কাঁচা পয়হা কোথায়, বাওয়া, যে বই কিনব?’

কথাটার মধ্যে একটুখানি সত্য—কনিষ্ঠাপরিমাণ—লুকনো রয়েছে। সেইটুকু এই যে, বই কিনতে পয়সা লাগে-ব্যস। এর বেশি আর কিছু নয়।

বইয়ের দাম যদি আরো কমানো যায়, তবে আরো অনেক বেশি বই বিক্রি হবে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তাই যদি প্রকাশককে বলা হয়, ‘বইয়ের দাম কমাও’, তবে সে বলে ‘বই যথেষ্ট পরিমাণে বিক্রি না হলে বইয়ের দাম কমাবো কি করে?’

‘কেন মশাই, সংখ্যার দিক দিয়ে দেখতে গেলে বাঙলা পৃথিবীর ছয় অথবা সাত নম্বরের ভাষা। এই ধরুন ফরাসি ভাষা। এ-ভাষায় বাঙলার তুলনায় ঢের কম লোক কথা কয়। অথচ যুদ্ধের পূর্বে বারো আনা, চৌদ্দ আনা, জোর পাঁচ সিকে দিয়ে যে-কোন ভাল বই কেনা যেত। আপনারা পারেন না কেন?’

‘আজ্ঞে, ফরাসি প্রকাশক নিৰ্ভয়ে যে-কোন ভালো বই এক ঝট্‌কায় বিশ হাজার ছাপাতে পারে। আমাদের নাভিশ্বাস ওঠে দু’হাজার ছাপাতে গেলেই, বেশি ছাপিয়ে দেউলে হব নাকি?’

তাই এই অচ্ছেদ্য চক্ৰ। বই সস্তা নয় বলে লোকে বই কেনে না, আর লোকে বই কেনে না বলে বই সস্তা করা যায় না।

এ চক্র ছিন্ন তো করতেই হবে। করবে কে? প্রকাশক না ক্রেতা? প্ৰকাশকের পক্ষে করা কঠিন, কারণ ঐ দিয়ে পেটের ভাত যোগাড় করে। সে বঁটুকিটা নিতে নারাজ। এক্সপেরিমেন্ট করতে নারাজ—দেউলে হওয়ার ভয়ে।

কিন্তু বই কিনে কেউ তো কখনো দেউলে হয় নি। বই কেনার বাজেট যদি আপনি তিনগুণও বাড়িয়ে দেন, তবু তো আপনার দেউলে হবার সম্ভাবনা নেই। মাঝখান থেকে আপনি ফ্রাঁসের মাছির মত অনেকগুলি চোখ পেয়ে যাবেন, রাসেলের মত এক গাদা নূতন ভুবন সৃষ্টি করে ফেলবেন।

ভেবে-চিন্তে অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা করে বই কেনে সংসারী লোক। পাঁড় পাঠক বই কেনে প্রথমটায় দাঁতমুখ খিচিয়ে, তারপর চেখে চোখে সুখ করে করে, এবং সর্বশেষে সে কেনে ক্ষ্যাপার মত, এবং চুর হয়ে থাকে তার মধ্যিখানে। এই একমাত্র ব্যসন, একমাত্র নেশা যার দরুন সকালবেলা চোখের সামনে সারে সার গোলাপী হাতি দেখতে হয় না, লিভার পচে পটল তুলতে হয় না।

আমি নিজে কি করি? আমি একাধারে producer এবং consumer— তামাকের মিকশ্চার দিয়ে আমি নিজেই সিগারেট বানিয়ে producer এবং সেইটে খেয়ে নিজেই consumer: আরও বুঝিয়ে বলতে হবে? আমি একখানা বই produce করেছি।-কেউ কেনে না বলে আমিই consumer; অর্থাৎ নিজেই মাঝে মাঝে কিনি।

* * *

মার্ক টুয়েনের লাইব্রেরিখানা নাকি দেখবার মত ছিল। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বই, বই, শুধু বই। এমন কি কর্পেটের উপরও গাদা গাদা বই স্তুপীকৃত হয়ে পড়ে থাকত-পা ‘ ফেলা ভার। এক বন্ধু তাই মার্ক টুয়েনকে বললেন, ‘বইগুলো নষ্ট হচ্ছে; গোটাকিয়েক শেলফ যোগাড় করছ না কেন?’

মার্ক টুয়েন খানিকক্ষণ মাথা নিচু করে ঘাড় চুলকে বললেন, ‘ভাই, বলছে ঠিকই।—কিন্তু লাইব্রেরিটা যে কায়দায় গড়ে তুলেছি, শেলফ তো আর সে কায়দায় যোগাড় করতে পারিনে। শেলফ তো আর বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে ধার চাওয়া যায় না।’

শুধু মার্ক টুয়েনই না, দুনিয়ার অধিকাংশ লোকই লাইব্রেরি গড়ে তোলে কিছু বই কিনে : আর কিছু বই বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে ধার করে ফেরৎ না দিয়ে। যে-মানুষ পরের জিনিস গলা কেটে ফেললেও ছোবে না। সেই লোকই দেখা যায় বইয়ের বেলা সর্বপ্রকার বিবেক-বিবর্জিত, তার কারণটা কি?

এক আরব পণ্ডিতের লেখাতে সমস্যাটার সমাধান পেলুম।

পণ্ডিত লিখেছেন, ‘ধনীরা বলে, পয়সা কামানো দুনিয়াতে সবচেয়ে কঠিন কর্ম। কিন্তু জ্ঞানীরা বলেন, না, জ্ঞানার্জন সবচেয়ে শক্ত কাজ। এখন প্রশ্ন, কার দাবিটা ঠিক, ধনীর না জ্ঞানীর? আমি নিজে জ্ঞানের সন্ধানে ফিরি, কাজেই আমার পক্ষে নিরপেক্ষ হওয়া কঠিন। তবে একটা জিনিস আমি লক্ষ্য করেছি, সেইটো আমি বিচক্ষণ জনের চক্ষুগোচর করাতে চাই। ধনীর মেহন্নতের ফল হ’ল টাকা। সে ফল যদি কেউ জ্ঞানীর হাতে তুলে দেয়, তবে তিনি সেটা পরমানন্দে কাজে লাগান, এবং শুধু তাই নয়, অধিকাংশ সময়েই দেখা যায়, জ্ঞানীরা পয়সা পেলে খরচ করতে পারেন ধনীদের চেয়ে অনেক ভালো পথে, ঢের উত্তম পদ্ধতিতে। পক্ষাস্তরে জ্ঞানচর্চার ফল সঞ্চিত থাকে পুস্তকরাজিতে এবং সে ফল ধনীদের হাতে গায়ে পড়ে তুলে ধরলেও তারা তার ব্যবহার করতে জানে না-বই পড়তে পারে না।’

আরব পণ্ডিত তাই বক্তব্য শেষ করেছেন কিউ. ই. ডি দিয়ে ‘অতএব সপ্ৰমাণ হল জ্ঞানার্জন ধনার্জনের চেয়ে মহত্তর।’

তাই প্রকৃত মানুষ জ্ঞানের বাহন পুস্তক যোগাড় করার জন্য অকাতরে অর্থব্যয় করে। একমাত্র বাঙলা দেশ ছাড়া।

সেদিন তাই নিয়ে শোকপ্রকাশ করাতে আমার জনৈক বন্ধু একটি গল্প বললেন। এক ড্রইংরুম-বিহারিণী গিয়েছেন বাজারে স্বামীর জন্মদিনের জন্য সওগাত কিনতে। দোকানদার এটা দেখায়, সেটা শোকায়, এটা নাড়ে, সেটা কাড়ে, কিন্তু গরবিনী ধনীর (উভয়ার্থে) কিছুই আর মনঃপূত হয় না। সব কিছুই তাঁর স্বামীর ভাণ্ডারে রয়েছে। শেষটায় দোকানদার নিরাশ হয়ে বললে, ‘তবে একখানা ভাল বই দিলে হয় না?’ গরবিনী নাসিকা কুঞ্চিত করে বললেন, ‘সেও তো ওঁর একখানা রয়েছে।’

যেমন স্ত্রী তেমনি স্বামী। একখানা বইই তাদের পক্ষে যথেষ্ট।

অথচ এই বই জিনিসটার প্রকৃত সম্মান করতে জানে ফ্রান্স। কাউকে মোক্ষম মারাত্মক অপমান করতে হলেও তারা ঐ জিনিস দিয়েই করে। মনে করুন আপনার সবচেয়ে ভক্তিভালবাসা দেশের জন্য। তাই যদি কেউ আপনাকে ডাহা বেইজজৎ করতে চায়; তবে সে অপমান করবে। আপনার দেশকে। নিজের অপমান আপনি হয়ত মনে মনে পঞ্চাশ গুণে নিয়ে সয়ে যাবেন, কিন্তু দেশের অপমান আপনাকে দংশন করবে বহুদিন ধরে।

আঁদ্রে জিদে’র মেলা বন্ধুবান্ধব ছিলেন–অধিকাংশই নামকরা লেখক। জিদ রুশিয়া থেকে ফিরে এসে সোভিয়েট রাজ্যের বিরুদ্ধে একখানা প্ৰাণঘাতী কেতাব ছাড়েন। প্যারিসের স্তালিনীয়ারা তখন লাগল জিদের পিছনে-গালিগালাজ কটুকটব্য করে জিদের প্রাণ অতিষ্ঠা করে তুললো। কিন্তু আশ্চর্য, জিদের লেখক বন্ধুদের অধিকাংশই চুপ করে সব কিছু শুনে গেলেন, জিদের হয়ে লড়লেন না। জিদের জিগরে জোর চোট লাগল–তিনি স্থির করলেন, এদের একটা শিক্ষা দিতে হবে।

কাগজে বিজ্ঞাপন বেরল। জিদ তাঁর লাইব্রেরিখানা নিলামে বেচে দেবেন বলে মনস্থির করেছেন। প্যারিস খবর শুনে প্রথমটায় মূৰ্ছা গেল, কিন্তু সম্বিতে ফেরা মাত্রই মুক্তকচ্ছ হয়ে ছুটলো নিলাম-খানার দিকে।

সেখানে গিয়ে অবস্থা দেখে সকলেরই চক্ষুস্থির।

যে-সব লেখক জিদের হয়ে লড়েন নি, তাদের যে-সব বই তারা জিদকে স্বাক্ষর সহ উপহার দিয়েছিলেন, জিদ মাত্র সেগুলো নিলামে চড়িয়েছেন। জিদ শুধু জঞ্জালই বেচে ফেলছেন।

প্যারিসের লোক তখন যে অট্টহাস্য ছেড়েছিল, সেটা আমি ভূমধ্যসাগরের মধ্যিখানে জাহাজে বসে শুনতে পেয়েছিলুম–কারণ খবরটার গুরুত্ব বিবেচনা করে রয়টার সেটা বেতারে ছড়িয়েছিলেন–জাহাজের টাইপ-করা একশো লাইনি দৈনিক কাগজ সেটা সাড়ম্বরে প্রকাশ করেছিল।

অপমানিত লেখকরা ডবল তিন ডবল দামে আপন আপনি বই লোক পাঠিয়ে তড়িঘড়ি কিনিয়ে নিয়েছিলেন–যত কম লোকে কেনা-কাটার খবর জানতে পারে ততই মঙ্গল। (বাঙলা দেশে নাকি একবার এরকম টিকিট বিক্রি হয়েছিল!)

শুনতে পাই, এঁরা নাকি জিদকে কখনো ক্ষমা করেন নি।

* * *

আর কত বলবো? বাঙালির কি চেতনা হবে?

তাও বুঝতুম, যদি বাঙালির জ্ঞানতৃষ্ণা না থাকতো। আমার বেদনাটা সেইখানে! বাঙালি যদি হটেনটট হত, তবে কোনো দুঃখ ছিল না। এরকম অদ্ভুত সংমিশ্রণ আমি ভূভারতের কোথাও দেখি নি। জ্ঞানতৃষ্ণ তার প্রবল, কিন্তু কেনার বেলা সে অবলা! আবার কোনো কোনো বেশিরম বলে, ‘বাঙালির পয়সার অভাব’ বটে? কোথায় দাঁড়িয়ে বলছে লোকটা এ-কথা? ফুটবল মাঠের সামনে দাঁড়িয়ে, না সিনেমার টিকিট কাটার ‘কিউ’ থেকে।

থাক্‌ থাক্‌। আমাকে খামাখা চটাবেন না। বৃষ্টির দিন। খুশ গল্প লিখব বলে কলম ধরেছিলুম। তাই দিয়ে লেখাটা শেষ করি। গল্পটা সকলেই জানেন, কিন্তু তার গূঢ়াৰ্থ মাত্র কাল বুঝতে পেরেছি। আরব্যোপন্যাসের গল্প।

এক রাজা তাঁর হেকিমের একখানা বই কিছুতেই বাগাতে না পেরে তাঁকে খুন করেন। বই হস্তগত হল। রাজা বাহ্যজ্ঞান হারিয়ে বইখানা পড়ছেন। কিন্তু পাতায় পাতায় এমনি জুড়ে গিয়েছে যে, রাজা বার বার আঙুল দিয়ে মুখ থেকে থুথু নিয়ে জোড়া ছাড়িয়ে পাতা উল্টোচ্ছেন। এদিকে হেকিম আপন মৃত্যুর জন্য তৈরি ছিলেন বলে প্রতিশোধের ব্যবস্থাও করে গিয়েছিলেন। তিনি পাতায় পাতায় কোণের দিকে মাখিয়ে রেখেছিলেন মারাত্মক বিষ। রাজার আঙুল সেই বিষ মেখে নিয়ে যাচ্ছে মুখে।

রাজাকে এই প্ৰতিহিংসার খবরটিও হেকিম রেখে গিয়েছিলেন কেতাবের শেষ পাতায়। সেইটে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজা বিষবাণের ঘায়ে ঢলে পড়লেন।

বাঙালির বই কেনার প্রতি বৈরাগ্য দেখে মনে হয়, সে যেন গল্পটা জানে, আর মরার ভয়ে বই কেনা, বই পড়া ছেড়ে দিয়েছে।

সোমবার, ২৩ মে, ২০২২

মোঃ মিনহাজুল আবেদীন সম্পাদিত ‘আদ্যন্ত’র প্রকাশনা উৎসব সম্পন্ন।



 ‘সাহিত্যের সান্নিধ্যে থাকার প্রয়াস’

এই স্লোগানকে বুকে লালন করে মোঃ মিনহাজুল আবেদীন সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন ‘আদ্যন্ত’র প্রকাশনা উৎসব সম্পন্ন হয়েছে।


২০ এপ্রিল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় কুলাউড়া পৌরসভার হলরুমে আয়োজিত প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে ‘আদ্যন্ত’র সম্পাদক মোঃ মিনহাজুল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুলাউড়া পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিপার উদ্দিন বলেন, এই ডিজিটাল যুগে সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন। কিভাবে কম সময়ে বেশি অর্থ উপার্জন করা যায় এই চিন্তা মাথায় নিয়ে বেশিরভাগ তরুণেরা ছুটছে। এরকম এক অস্থিতিশীল সময়ে আমাদের তরুণ সংগঠক মিনহাজুল আবেদীন যে কাজটি করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- রাবেয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুছ ছালাম, এ এফ এম ফৌজি চৌধুরী, কবি ইব্রাহীম খলিল, শেড অব নেচারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু সুফিয়ান, প্রথম আলো কুলাউড়া বন্ধুসভার সভাপতি স্বপন কুমার দাস, ইয়াকুব তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক খালিক উদ্দিন, শেড অব নেচারের সাবেক সভাপতি আব্দুস সামাদ আজাদ চঞ্চল।

অন্যান্যের মধ্যে  বক্তব্য রাখেন- বন্ধুমহলের পক্ষে দেবদাস চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহম, সোশ্যাল কেয়ার অব নেশনের সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ খান শাওন, প্লাটুন টুয়েলভের হাবিবা ইসলাম ইমা, প্রমূখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আদ্যন্ত পরিবারের আশিকুল ইসলাম বাবু।

প্রসঙ্গত, প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ফ্রান্স প্রবাসী মিজানুর রহমান ও ফয়েজ আহমদ তপন।



সোমবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২২

আফলাতুন দৈনিক পাকিস্তান বা পরবর্তীকালের দৈনিক বাংলার শিশু-কিশোর পাতা ‘সাত ভাই চম্পা’র সম্পাদক

 


মোঃ মিনহাজুল আবেদীন : আফলাতুন ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ১ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপের রহমতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আব্দুল লতিফ। কৈশোরেই তিনি মাকে হারান। প্রথমে পড়ালেখা করেন স্থানীয় মাদ্রাসায়। পরে নিজ গ্রামে কারগিল হাইস্কুলে পড়ালেখা করেন। পরে জীবিকার তাগিদে চলে আসেন ঢাকায়। তাঁর ঢাকার জীবন অগোছালো। নিজে যা বুঝতেন তাই করতেন। শত দুঃখ-কষ্টের মাঝেও নিজেকে খাটো করতেন না। মার্জিত, রুচিশীল এবং প্রচণ্ডভাবে প্রচারবিমুখ ছিলেন আফলাতুন। মন-মানসিকতা ও চিন্তা-চেতনায় ছিলেন আধুনিক ও আদর্শবাদী। অসাম্প্রদায়িক এই মানুষটির বন্ধুর সংখ্যাও ছিলো হাতেগোনা। শামসুর রাহমান, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ, কায়সুল হক, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ ছিলো তার প্রিয়জন।


দৈনিক বাংলার ‘সাত ভাই চম্পা’ শিশুপাতাটি দেখতেন আফলাতুন। তখনকার সময়ে সবচে’ আধুনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি। পাতাটি শাদাকালো হলেও রঙে-গুণে-মানে চকচকে ঝকঝকে ছিল। আফলাতুন লেখাগুলো দেখতেন লাল কালির কলমে। লেখায় ভুল-ত্রুটি দেখলেই গোল চিহ্ন দিয়ে বলতেন এগুলো ঠিক করে নিয়ে আসো। পরামর্শ দিতেন। কীভাবে লেখায় উন্নতি করা যায়। গল্পগুলো কীভাবে লিখতে হয়। তখনকার সময়ে দৈনিক বাংলার ‘সাত ভাই চম্পা’য় যাঁদের লেখা ছাপা হতো তাঁদেরই লেখক হিশেবে গন্য করা হতো।


১৪ মে ২০০৬ মারা গেছেন আফলাতুন। তার প্রিয় মানুষ ছিলো সক্রেটিস, প্লেটো, টলস্টয়, গোর্কি, লাচা ও অস্কার ওয়াইল্ড। এঁদের মধ্যে প্লেটোর আরবী নামটিই তিনি ধারণ করেছিলেন লেখালেখির শুরুতে পিতৃদত্ত নামটি আমাদের কাছে অজানা থেকেই গেছে। সাহিত্য ও সাংবাদিক জগতে তিনি আফলাতুন নামেই পরিচিত ছিলেন। আফলাতুন সারাজীবনই সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ছিলেন দৈনিক পাকিস্তান বা দৈনিক বাংলায়। সাংবাদিকতা শুরু করেন কবি সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত মাসিক সমকালে চাকরি নিয়ে। এর আগে তিনি কিছুদিন শিল্প বিভাগেও চাকরি করেন। খণ্ডকালীন চাকুরে ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের। জীবনের শেষপর্বে এসে তিনি যোগদান করেন দৈনিক জনকণ্ঠে। তবে দৈনিক পাকিস্তান বা দৈনিক বাংলায় তার চাকরি জীবনের সিংহভাগ সময় কেটেছে। দৈনিক বাংলায় তিনি ছিলেন ফিচার এডিটর। ছোটদের জন্য নির্ধারিত ফিচার পাতা সাতভাই চম্পা তিনি সম্পাদনা করতেন। সাতভাই চম্পা সম্পাদনা তার জীবনের উজ্জ্বলতম অধ্যায়। এদেশে তিনিই প্রথম আধুনিক ও রুচিশীল শিশুতোষ পাতা ছোটদের উপহার দেন এবং একদল তরুণ তাজা লেখক সৃষ্টি করেন, যারা বর্তমান সময়ের নামী-দামী। সাতভাই চম্পার অনেক বৈশিষ্ট্য ছিলো। দু'পৃষ্ঠার সাতভাই চম্পায় ঢাউস ছবি ছাপতেন। গল্প ও ছড়া-কবিতার জুতসই অলঙ্করণ করতেন। বিশেষ সংখ্যায় লেখার সঙ্গে লেখকের ছবি ছাপতেন। আবার প্রথমদিকে সাতভাই চম্পার লোগোতে যাদের একবার লেখা ছাপা হয়েছে, তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতেন এবং প্রতি সপ্তায় তা ছাপা হতো। অভিনব হলো তার মেকআপ-গেটআপ। প্রচণ্ড সাড়া জাগিয়েছিলো সাতভাই চম্পা। তখন সাতভাই চম্পায় নিয়মিত লিখতেন শামসুর রাহমান, বেলাল চৌধুরী, এখলাসউদ্দিন আহমেদ, মোহম্মদ মাহফুজউল্লাহ, সুকুমার বড়ুয়া, শাহরিয়ার কবির, মুনতাসীর মামুন, আলী ইমাম, পূরবী বসু, ফজল-এ-খোদা, আজমেরী ওয়ারেশ, আখতার হুসেন, মাহমুদউল্লাহ, আবু সালেহ, মসউদ-উশ-শহীদ, আহমদ আনিসুর রহমান, আহমদ নূরে আলম, ইফতেখার হোসেন, আলী আহসান, কাজল, বেবী মওদুদ, রুবী মওদুদ, সিদ্দিকা মাহমুদা, মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, কাজী সালাহউদ্দিন, প্রণব চৌধুরী, জামসেদুজ্জামান লাকি প্রমুখ। আবদুল মোহিত, শাহাদাত বুলবুল, আলমগীর বাবুল, রিটন রহমান (লুত্ফর রহমান রিটন), আমীরুল ইসলাম, রোকেয়া খাতুন রুবী, শাহাবুদ্দিন নাগরী, ফারুকী খান রক্সি, আইউব সৈয়দ, আহমাদউল্লাহ, আনিস রহমান, তপংকর চক্রবর্তী, দীপংকর চক্রবর্তী, শাকিল কালাম, আশরাফুল আলম পিন্টু, ফারুক নওয়াজ, আনসার আলী, ইজাজ হোসেন, আবিদ আজাদ, আবু হাসান শাহরিয়ার, আসলাম সানী, আবু কায়সার, ওবায়দুল গনি চন্দন, ঝর্ণাদাস পুরকায়স্থ, দিলওয়ার, দেলোয়ার বিন রশীদ, বিপ্রদাস বড়ুয়া, বুলবন ওসমান, আল মনসুর, মাহবুব তালুকদার, মুরতাজা আলী, লুবনা জাহান, রশীদ হায়দার, রেজোয়ান সিদ্দিকী, শওকত আলী, ফরিদুর রেজা সাগর, শাফিকুর রাহী, শেখ তোফাজ্জল হোসেন, সৈয়দ আল ফারুক, নাজমুল হাসান, হাসান হাফিজ, আবদুর রহমান, ওয়াসিফ-এ-খোদা প্রমুখ। তাদের লেখায় সাতভাই চম্পায় বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছিলো।


একজন মননশীল সম্পাদক ও গদ্যের এক নিপুণ কারিগর হিসেবে আফলাতুন অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বড়দের কাছে, ছোটদের কাছে।

২ জনের ফাঁসি ৬ জনের যাবজ্জীবন ৭ জন খালাস

 


     সিনহা হত্যা মামলায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও ইনচার্জ লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড ৬ জনের যাবজ্জীবন ৭ জন খালাস পেয়েছেন.. 

শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২২

ধাপে ধাপে বাড়ছে চালের দাম

 

বোরো ও আমন দুই মৌসুমেই ধানের ভালো ফলন হয়েছে কিন্তু ধাপে ধাপে বাড়ছে চালের দাম।


২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারি - বেসরকারি আমদানি ৯ লাখ টন সব মিলে সরকারি মজুত ১৭ লাখ টন তারপরও দাম বেড়েছে কেজিতে চার থেকে আট টাকা ?

বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২

এখানে আসার আগে আমি সরকারের সর্ব্বোচ্চ লোকদের সাথে কথা বলে এসেছি


খ্যাতনামা কথা সাহিত্যিক, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের শিক্ষক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড.জাফর ইকবাল স্যার ও ড.ইয়াসমিন হক মেডাম শাবিপ্রবির আন্দোলনে অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন," এখানে আসার আগে আমি সরকারের সর্ব্বোচ্চ লোকদের সাথে কথা বলে এসেছি। আমি তাদের কাছে যাইনি, তাঁরা আমার বাসায় এসেছেন।  আমি তাদের কথা রেখেছি এখন তাঁরা আমাকে যে কথা দিয়েছেন তা রক্ষা করবেন। না করলে আমার সাথে এবং গোটা জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। তিনি চাত্রদের আন্দোলন একশ ভাগ যৌক্তিক দাবী করে বলেন, আমি অবসরে যাবার আগে চিঠি লিখে বলেছিলাম এ গুলো বন্ধ করুন নইলে এই ক্ষোভ একদিন বিক্ষোভে রূপ নিবে। আজ তা অক্ষরে অক্ষরে প্রতিফলিত হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন," অনশনরত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যারা টাকা দিয়ে সাহায্য করত  তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এর চেয়ে জঘন্যতম কাজ  আর কী হতে পারে?" পুলিশের নির্যাতনের সময় শিক্ষকরা সামনে এসে না আটকানোর ঘটনায় ড.ইয়াসমিন হক তাঁর হার্টে লেগেছে বলে উল্লেখ করেন। তাঁরা উভয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন  ৫৪টি সংগঠন ছিল যার কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আলাদা পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য ছিল। এগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আরও অনেক কিছু। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পাঠদানের জায়গা নয়।ভিসির ব্যাপারে তাঁদের কথায় যা প্রকাশ পেয়েছে  তা হলো, তিনির  কোন একাডেমিক যোগ্যতাই নেই।

তাঁরা দুজনেই  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বলেন, " তারা খুব সুন্দর,সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ অবস্থায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সেবা সহ  যাবতীয় বিষয় গুলো নিয়ন্ত্রণে রেখে আন্দোলন পরিচালনা করে আসছে, তারাই ভবিষ্যতে দেশের নের্তৃত্ব দেবে।" শিক্ষকরা ভিসিকে এতো ভয় পায় কেন এই প্রশ্নের উত্তরে স্যার বলেন," মেরুদণ্ড থাকতে হয়।" আর  ড.ইয়াসমিন হক মেডাম ছাত্রদের উদ্দেশ্য করে বলেন,  " তোমরা মেরুদণ্ডহীন হবা না।

ড.জাফর ইকবাল স্যার ছাত্রদের হাতে দশ হাজার টাকা তোলে দিয়ে বলেছিলেন, " পুলিশ আমাকে  গ্রেফতার করুক।"


জয়তু ড.জাফর ইকবাল স্যার

জয়তু ড.ইয়াসমিন হক মেডাম

আপনারা দেশে আছেন বলেই দেশ সম্মান পায়।আমরাও শান্তি পাই।

মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২২

কেউ কোনো নড়াচড়া করবেন না, টাকা গেলে যাবে সরকারের


জার্মানির এক নামকরা ব্যাংকে ব্যাংক ডাকাতির সময় ডাকাত দলের সর্দার বন্দুক হাতে নিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বললো, "কেউ কোনো নড়াচড়া করবেন না, টাকা গেলে যাবে সরকারের, কিন্তু জীবন গেলে যাবে আপনার আর  তাই ভাবনা চিন্তা করে আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করুন।"


এই কথা শোনার পর, সবাই শান্ত হয়ে চুপচাপ মাথা নিচু করে শুয়ে পড়েছিল। এই ব্যাপারটাকে বলে "Mind Changing Concept”, অর্থাৎ মানূষের ব্রেইনকে আপনার সুবিধা অনুযায়ী অন্যদিকে কনভার্ট করে ফেলা।


সবাই যখন শুয়ে পড়েছিল, তখন এক সুন্দরী মহিলার কাপড় অসাবধানতা বসত তার পা থেকে কিছুটা উপরে ঊঠে গিয়েছিল এমন সময় ডাকাত দলের সর্দার তার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলে উঠলো, "আপনার কাপড় ঠিক করুন! আমরা এখানে ব্যাংক ডাকাতি করতে এসেছি, রেপ করতে না।"


এই ব্যাপারটাকে বলে "Being Professional”, অর্থাৎ আপনি যেটা করতে এসেছেন, সেটাই করবেন। যতই প্রলোভন থাকুক অন্যদিকে মনোযোগ দেওয়া যাবে না।


যখন ডাকাতরা ডাকাতি করে তাদের আস্তানায় ফিরে এলো তখন এক ছোট ডাকাত(এমবিএ পাশ করা) ডাকাত দলের সর্দার(যে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে)কে বললো, "বস চলেন টাকাটা গুনে ফেলি"


ডাকাত দলের সর্দার মুচকি হেসে বললো, তার কোনোই প্রয়োজন নেই, কেনোনা একটু পরে টিভি ছাড়লে নিউজ চ্যানেলগুলোই বলে দেবে আমরা কতো টাকা নিয়ে এসেছি।


এই ব্যাপারটাকে বলে "Experience"। অভিজ্ঞতা যে গতানুগতিক সার্টিফিকেট এর বাইরে গিয়েও কাজ করতে পারে, ইহা তার একটি ঊৎকৃষ্ট প্রমাণ।


ডাকাতরা চলে যাওয়ার সাথে সাথেই ব্যাংক এর এক কর্মচারি ব্যাংক ম্যানেজারের কাছে ছুটে এসে বললো, স্যার তাড়াতাড়ি চলেন পুলিশকে ফোন করি, এখনই ফোন করলে ওরা বেশিদূর যেতে পারবে না। ব্যাংক ম্যানেজার কর্মচারিকে থামিয়ে দিয়ে বললো, ওদেরকে আমাদের সুবিধার জন্যই এই ২০ মিলিয়ন টাকা নিয়ে যেতে দেওয়া উচিৎ, তাহলে আমরা যে ৭০ মিলিয়ন টাকার গরমিল করেছি, তা এই ডাকাতির ভিতর দিয়েই চালিয়ে দেওয়া যাবে।


এই ব্যাপারটাকে বলে, Swim with the tide, অর্থাৎ নিজের বিপদকেও বুদ্ধি দিয়ে নিজের সুবিধা হিসেবে ব্যবহার করা।


কিছু সময় পরেই, টিভিতে রিপোর্ট আসলো, ব্যাংক ডাকাতিতে ১০০ মিলিয়ন টাকা লোপাট। ডাকাতরা সেই রিপোর্ট দেখে বারবার টাকা গুনেও ২০ মিলিয়ন এর বেশি বাড়াতে পারলো না। ডাকাত দলের সর্দার রাগে ক্রুদ্ধ হয়ে বললো, "শালা আমরা আমাদের জীবনের ঝুকি নিয়ে, এতো কিছু ম্যানেজ করে মাত্র ২০ মিলিয়ন টাকা নিলাম আর ব্যাংক ম্যানেজার শুধুমাত্র এক কলমের খোঁচাতেই ৮০ মিলিয়ন টাকা সরিয়ে দিল। শালা চোর-ডাকাত না হয়ে পড়াশোনা করলেই তো বেশি লাভ হত।"


এই ব্যাপারটাকে বলে "Knowledge is worth as much as gold!" অর্থাৎ অসির চেয়ে মসী বড়।


ব্যাংক ম্যনেজার মন খুলে হাসছে, কেনোনা তার লাভ ৮০ মিলিয়ন টাকা। ৭০ মিলিয়ন টাকার গরমিল করেও সে আরও ১০ মিলিয়ন টাকা এই সুযোগে তার নিজের পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেছে।


এই ব্যাপারটাকে বলে, 

"Seizing the opportunity.” Daring to take risks!


এভাবেই যেকোনো সিচুয়েশনকে কাজে লাগাতে হয়।


Collected